চিরায়ত গল্প শিয়াল ও আঙুর ফল

অনেক অনেক বছর আগের এক শিয়ালের গল্প শুনি চলো। গল্পের শিয়ালটা বাস করতো এক আঙুর বাগানের পাশেই। ও ছিলো একটু পেটুক আর লোভীও। বাগানে থোকা থোকা আঙুর। কিন্তু সেগুলো ছিলো কাঁচা। শিয়ালটা প্রায়ই লোভীর মতো আঙুরের দিকে তাকিয়ে ভাবতো, আর ক’দিন পরই পাকবে আঙুর; তখন খুব মজা করে খাবো। এই বলে একটু অপেক্ষা করতো। আবার তাকাতো আর বলতো, ‘আহ! যখন এগুলো আমি মুখে দেবো, কতোই না সুস্বাদু লাগবে!’

এভাবে ভাবতো আর চোখ বন্ধ করে কল্পনা করতো রসে টইটম্বুর আঙুর মুখে পুরে চিবুচ্ছে! কিন্তু কাঁচা বলে সেগুলো সে খেতে পারতো না। অপেক্ষায় আছে কখন পাকবে আর কখন খাবে।

এক রোদমাখা সকালে ঘুম ভাঙলো শিয়ালটির। জেগেই তাকালো আঙুরের দিকে। আহ! সব আঙুর পেকে কেমন টসটস করছে! সে ধৈর্য ধরতে পারলো না। লাফিয়ে লাফিয়ে আঙুর গাছের কাছে গেলো। তারপর দিলো ইয়াব্বড় এক লাফ। কিন্তু কী দুর্ভাগ্য! শিয়ালটি আঙুর স্পর্শ করতে পারলো না। কারণ আঙুরগুলো ছিলো অনেক উপরে। তাই সে একটু দূরে গেলো এবং দৌড়ে আঙুর থোকার কাছে এসে বিরাট লাফ দিলো।

কিন্তু তবুও সে আঙুর ধরতে পারলো না। তারপর সে আবারও লাফ দিলো। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে নিচে আছড়ে পড়লো। তখন সে ভাবলো, তাকে আরও পরিশ্রম করতে হবে। কিন্তু আঙুরগুলো অনেক উপরে ছিলো; আর সে যতো জোরেই লাফ দিক না কেন, তার পক্ষে আঙুর স্পর্শ করা সম্ভব ছিলো না। তাই সে শেষমেশ হাল ছেড়ে দিলো।

আর যেতে যেতে ভাবছিলো, আসলে ওই আঙুরগুলো খুবই টক। এমন টক আঙুর আমি কখনোই খাবো না। এমন কি কেউ যদি আমাকে একটা স্বর্ণের মাছ দেয়, তাও আমি ওই আঙুর খাবো না!

অনুবাদ: পান্থ বিহোস